
এ.কে পলাশ, কুমিল্লা : কুমিল্লার চান্দিনা গল্লাই ইউনিয়নের কঙ্গাই লাল মসজিদ সংলগ্ন (ঘোরগা জ্বলায়) এলাকায় একসঙ্গে তিনটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে কৃষি মাঠে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু-মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় কিছু ব্যবসায়ী।
সুত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের কঙ্গাই লাল মসজিদের পাশে একটি কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে কঙ্গাই উত্তরপাড়া বড়বাড়ির সোলেমানের ছেলে রুবেল, ব্যাপারী বাড়ির আব্দুল আওয়ালের ছেলে আব্দুল কাদের ও আরিফ।
জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ভেঙে দেওয়াসহ বালু-মাটি উত্তোলনে জড়িত অনেককেই অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন।
দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকা নেতা-কর্মীদের সাথে সাবেক কিছু জনপ্রতিনিধিও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কৃষি জমি বিলীনের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। এসব ঘটনা জেনেও না দেখার ভান করায় প্রভাবশালী ওই ভূমিদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কেউ কোনো বাঁধা দিচ্ছেনা। যেকারণে স্থানীয়রা এদের বিরুদ্ধে ভয়ে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন বর্তমানে দেশের এমন পরিস্থিতি যে, এদের বিরুদ্ধে বাঁধা কিংবা প্রতিবাদ করলেই মারধর সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার উপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও এবিষয়ে জানালে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জীবন যাপন করতে হবে। কিন্তু এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বা দেখার কেউ নেই। এই ভাবে চলতে থাকলে ফসল উৎপাদনের জন্য এই মাঠে কৃষি জমি খোঁজে পাওয়া যাবে না।
এবিষয়ে চান্দিনা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান- এই ভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি বা বালু উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। আমরা এবিষয়ে কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। বাকি গুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এবিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
















