
নিজস্ব প্রতিবেদক |
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের সূচনা পর্বে তিনটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ শোনার পর জিয়াউল আহসান নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেন এবং সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ট্রাইব্যুনাল আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ মামলায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগীর স্বজন এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। পাশাপাশি গুম-সংক্রান্ত নথি, আলামত ও বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশবিশেষ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান ক্ষমতাসীন সরকারের ছত্রছায়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশকে ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন। এসব অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত হওয়ায় তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে বলেন, বিচার চলাকালে তারা সব অভিযোগের জবাব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেবেন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হলো, যা অতীতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আশা, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে এবং গুম ও হত্যার শিকার মানুষগুলোর প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন…


















