সাভার প্রতিনিধি |
পোশাক কারখানার সামান্য একজন শ্রমিক থেকে রাতারাতি ১১৪ কোটি টাকার মালিক! কোনো রূপকথা নয়, বরং সাভার-আশুলিয়ার সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর কথিত পিএস মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম শরীফের উত্থান যেন কোনো থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও, শরীফের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে রকেটের গতিতে। ক্ষমতার দাপট, টেন্ডারবাজি, কমিশন আর তদবির বাণিজ্যে ফুলেফেঁপে উঠেছেন তিনি।
নদী থেকে বাজার—সবই শরীফের কবজায়
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাথালিয়া ইউনিয়নের ধনিয়া গ্রামের আছার উদ্দিন আহমেদের ছেলে শরীফ ৫ই আগস্টের পর ভোল পাল্টে ফেলেন। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আশুলিয়া ইপিজেড এলাকার তিনটি গার্মেন্টসসহ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দৈনিক প্রায় ১ কোটি টাকার বাণিজ্য চলে তার ইশারায়। শুধু তাই নয়, নয়ারহাট বাজারের সরকারি জমি লিজ নিয়ে অর্ধশতাধিক দোকান বসিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনও চলছে তার ছত্রছায়ায়।
মামলার ভয় দেখিয়ে ‘কোটি কোটি’র বাণিজ্য
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া থানাকে ঘিরে। জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সরকারি চাকরিজীবীদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার টোপ দিয়ে অন্তত ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই কথিত পিএস। এমনকি আওয়ামী লীগ আমলের প্রকৌশলীকে বহাল রেখে পৌরসভার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগও এখন ওপেন সিক্রেট।
একনজরে শরীফের ‘সাম্রাজ্য’:
- মোট সম্পদ: আনুমানিক ১১৪ কোটি টাকা।
- আয়ের উৎস: ইপিজেড নিয়ন্ত্রণ, বালি উত্তোলন, দোকান লিজ ও তদবির।
- বিলাসিতা: দুবাই, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় নিয়মিত সফর ও ক্যাসিনো।
- দখলদারি: গণ বিদ্যাপীঠ স্কুলের গভর্নিং বডির পদ ও হাট-বাজার।
ক্ষমতার দাপটে ধরাকে সরা জ্ঞান
অভিযোগ রয়েছে, এমপিকে ম্যানেজ করার নামে নির্বাচন কমিশনের সচিবের নাম ভাঙিয়েও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এমনকি ডিস ব্যবসা, ইন্টারনেট ও মাদক সিন্ডিকেটেও জড়িয়েছে তার নাম। সম্প্রতি তার এই লাগামহীন দুর্নীতির ফিরিস্তি জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে।
পোশাক কারখানার সেই সাধারণ শরীফ এখন চলেন দামী গাড়িতে, তার জীবনযাত্রা এখন আভিজাত্যে মোড়া। এলাকার সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন—একজন কথিত পিএসের যদি এই অবস্থা হয়, তবে ক্ষমতার উৎস কোথায়? স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ‘লুটপাটের’ রাজত্বের অবসান এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















