
সম জিয়াউর রহমান, চট্রগ্রাম প্রতিনিধি:
আগস্টের হিসাবটাই আসলে সব বলে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, হত্যা, মামলা – সবকিছু জুলাই দাঙ্গার সময়কার চেয়ে তিন গুণ বেড়ে গেছে। সংখ্যাটা কাগজে কলমে বাড়তি অঙ্ক মনে হলেও এর ভেতরে লুকানো ভয়াবহতার আলাদা করে কোনো ব্যাখ্যা করার দরকার নেই। এটা আসলে সেই জুলাইয়ের দাঙ্গারই পরিণতি, যে দাঙ্গা বিদেশি টাকার জোগান, ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর মাঠের দাপট আর সেনাবাহিনীর নোংরা খেলায় সাজানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিলো একটাই – দেশের নির্বাচিত ও সফলতম সরকারকে ফেলে দিয়ে ইউনুস নামের মহাজনকে ক্ষমতার চেয়ারে বসানো আর তার পাশেই সেনাপ্রধান ওয়াকারকে চৌকি পেতে দেয়া।
এটা এখন আর কোনো গোপন ষড়যন্ত্র নয়, সবই চোখের সামনে ঘটেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর হামলা হয়েছে, তাদের কুপিয়ে মারা হয়েছে, ফেনীতে একসাথে পাঁচজনকে খুনের পরিকল্পনা হয়েছে, প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কেউ দুর্নীতির খবর প্রকাশ করেছে, কেউ সেনাবাহিনীর ভেতরের খেলা ধরতে চেয়েছে — সবার পরিণতি একই : হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি। আর এইসবের ভেতর দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়, সাংবাদিকতা এখন এদেশে অপরাধের সমান হয়ে গেছে। সত্য বললেই আপনি রাষ্ট্রের শত্রু।
ইউনুস-ওয়াকার জুটি এই খেলাটার মূল চরিত্র। ইউনুস বিদেশে দিয়ে ফেরেশতা সাজেন, মহাজনের মতো ঋণের হিসাব মেলান, আর ভেতরে ভেতরে দেশের স্বাধীনতাকে বন্ধক রেখে নিজের ক্ষমতার ভিত্তি শক্ত করছেন। ওয়াকার সামরিক বাহিনীর নামে দেশের ভেতরে ভয়ের রাজনীতি চালান, কিন্তু আসল আনুগত্য কোথায় সেটা সবাই জানে। এই দুজনের হাতে এখন গণতন্ত্র, গণমাধ্যম, মানুষের অধিকার সব জিম্মি।
অগাস্টের এই রিপোর্টে শুধু সাংবাদিকরাই নন, আরও আছে – সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাঙচুর, ধর্ষণ, কারাগারে মৃত্যু, সীমান্তে হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন, অজ্ঞাত লাশ। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর বাড়তি হামলা যেনো আলাদা করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, ক্ষমতাটা কোথায় আর কাদের হাতে। একটা রাষ্ট্র যেখানে সাংবাদিকদের রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে মেরে ফেলা যায়, সেখানে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সুরক্ষিত — এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয়।
আজকের বাংলাদেশে রাষ্ট্র আর জনগণের মধ্যকার সম্পর্কটা ভেঙে পড়েছে। সেনাবাহিনীর বুট, বিদেশি মুদ্রা আর জেহাদি সন্ত্রাস একসাথে মিশে গেছে। নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়ে ইউনুস-ওয়াকার জুটি যে দানব তৈরি করেছে, আগস্টের ঘটনা কেবল তার প্রথম প্রদর্শনী। সামনে কী আসছে সেটা ভাবলেই আতঙ্কে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে!
















