বাণিজ্য ডেস্ক:উচ্চ সুদের হার, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বিশ্ব পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ের ওপর। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও ঋণ সংকটে বাণিজ্য সম্প্রসারণে হিমশিম খাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কেও টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। শুল্ক আরোপ, প্রযুক্তি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ এবং সরবরাহ চেইন পুনর্বিন্যাসের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকায় বিনিয়োগ প্রবাহ কমে গেছে। ফলে নতুন শিল্প ও রপ্তানিমুখী খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ডলারের শক্ত অবস্থান অনেক দেশের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ডব্লিউটিওর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। শুল্ক বাধা কমানো, আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ডিজিটাল বাণিজ্য ও সবুজ অর্থনীতি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে সে জন্য প্রয়োজন নীতিগত স্থিরতা ও বৈশ্বিক সমন্বয়।

















