
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাওড়ের ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম দীর্ঘ ভাসমান সেতুটি এখন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সরকারি কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা ছাড়াই স্থানীয় ১৪৮টি পরিবারের নিজস্ব অর্থায়ন ও অক্লান্ত শ্রমে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিস্ময়কর স্থাপত্য। লোহার পাত আর ১৪৬৮টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর ভাসমান এই সেতুটি এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল: বছরের পর বছর বাওড় পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার ও ঝাঁপা গ্রামের সাধারণ মানুষকে। সরকারি দ্বারে দ্বারে ঘুরেও যখন কোনো সুরাহা মেলেনি, তখন গ্রামের ১৪৮টি পরিবার একজোট হয়ে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে এই সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। তাদের এই সাহসী উদ্যোগে বাওড়ের বুক চিরে এখন সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১ হাজার ফুট দীর্ঘ এই নান্দনিক সেতু।
পর্যটকদের হাতছানি: প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই ড্রামের সেতুটি দেখতে ভিড় করছেন। পানির ওপর ১৪৬৮টি ড্রাম দিয়ে সাজানো সেতুটি যখন ঢেউয়ের তালে তালে দুলতে থাকে, তখন দর্শনার্থীরা এক অন্যরকম রোমাঞ্চ অনুভব করেন। বিকেলের রোদে বাওড়ের নীল পানির ওপর মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেল নিয়ে পার হওয়ার দৃশ্যটি এখন এলাকার মানুষের কাছে এক অভ্যস্ত কিন্তু চমৎকার অনুভূতি।
বিপ্লব ও সম্ভাবনা: স্থানীয়রা জানান, এই সেতুর কারণে শুধু যাতায়াতের ভোগান্তিই দূর হয়নি, বরং এটি এলাকার অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। পর্যটকদের পদচারণায় বাওড় পাড়ে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকান ও খাবার হোটেল। গ্রামবাসীর এই অভাবনীয় সাফল্য এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতেই, ‘ইচ্ছে থাকলে যে অসাধ্য সাধন করা যায়’, ঝাঁপা বাওড়ের এই ভাসমান সেতু তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















