
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কমিশনের ‘ডেডলাইন’ আল্টিমেটাম
মো.রিয়াজুল সোহাগ, নিউজ ডেস্কঃ
দিন ঘনিয়ে আসছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় ১২ ফেব্রুয়ারি যতই কাছে আসছে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পারদ ততই চড়ছে। একাদশ ঘণ্টার প্রচারণায় এখন নির্ঘুম রাত কাটছে প্রার্থী ও সমর্থকদের। গলি থেকে রাজপথ—সবই এখন মিছিল আর স্লোগানে মুখর। এরই মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে কোনো ‘ছাড়’ দেওয়া হবে না।
সময় মাত্র ৪টা ৩০!
নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দূর-দূরান্তে থাকা ভোটার বা যারা সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না, তাদের পোস্টাল ব্যালট অবশ্যই ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছাতে হবে। এর এক মিনিট দেরি হলেও সেই ব্যালট বাক্সে উঠবে না, সরাসরি বাতিলের খাতায় চলে যাবে। ইসির এই কড়া অবস্থানে মাঠ পর্যায়ে কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী ও সরকারি চাকুরিজীবীদের ভোটের হিসেবে ওলটপালট হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে রাজধানীর প্রতিটি অলিতে-গলিতে প্রার্থীদের পোস্টারে আকাশ দেখার উপায় নেই। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—আলোচনা একটাই, ‘কে হাসবে শেষ হাসি?’ প্রধান দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের মন জয়ে চলছে নানা প্রতিশ্রুতি আর উন্নয়নের ফুলঝুরি।
নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে যেমন উৎসাহ আছে, তেমনি আছে এক অজানা শঙ্কা। নির্বাচনী সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও ভেতরে ভেতরে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছেই। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেট—সবখানেই বড় দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হুংকার রাজনৈতিক মাঠকে আরও গরম করে তুলেছে।
“আমরা একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। পোস্টাল ব্যালটের সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে যাতে ফলাফল ঘোষণায় কোনো বিলম্ব বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।”
সব মিলিয়ে দেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে। ১২ ফেব্রুয়ারির সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, কার ভাগ্যে জুটছে রাজতিলক আর কার কপালে ব্যর্থতার তিলক।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















