
নিজস্ব প্রতিবেদক |
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সব রেকর্ড ভেঙে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকারও বেশি ছুঁয়েছে, যা দেশের স্বর্ণবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি মাসেই একাধিক দফায় দাম বাড়ার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং আমদানি পর্যায়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ডলার সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাম বাড়ার কারণে স্বর্ণের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিয়ের মৌসুম থাকা সত্ত্বেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকছেন।
একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, “স্বর্ণের দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে দিনে ৮–১০ জন ক্রেতা আসত, এখন সেখানে ২–৩ জনও পাওয়া যায় না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের উত্তেজনা এবং বড় অর্থনীতিগুলোর মুদ্রানীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য স্বর্ণ কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড দামে পৌঁছানো স্বর্ণ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে—এমন মন্তব্যই শোনা যাচ্ছে বাজারজুড়ে।
আরও পড়ুন…


















