
সিন্ডিকেটের থাবায় ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
শেখ খায়রুল ইসলাম, পাইকগাছা (খুলনা)| খুলনার পাইকগাছা থেকে যশোর জেলা শহরে সরাসরি বাস চলাচল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী পরিবহন সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় পরিকল্পিতভাবে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ যশোরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও বিমান যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বন্ধ রয়েছে সরাসরি যোগাযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশির দশকে পাইকগাছার কপিলমুনি থেকে যশোর পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচল ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও রুটটি পুনরায় চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন কোনো বাস এই রুটে নামতে চাইলে সিন্ডিকেটের বাধায় তা ভেস্তে যায়।
যে কারণে যশোর যাতায়াত জরুরি
যশোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বিশেষ করে:
- যশোর বিমানবন্দর: খুলনা বিভাগের মানুষের আকাশপথে যোগাযোগের প্রধান ভরসা। সরাসরি বাস না থাকায় ফ্লাইটের সময় ধরা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
- যশোর শিক্ষা বোর্ড: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদ উত্তোলন, সংশোধন ও শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে যেতে হয়।
- বিআরটিএ অফিস: গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে।
সরাসরি বাস না থাকায় বর্তমানে যাত্রীদের খুলনা বা সাতক্ষীরা হয়ে ঘুরপথে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যাত্রা করতে হচ্ছে।
পাইকগাছা প্রেসক্লাব সভাপতি— অ্যাডভোকেট এফএমএ রাজ্জাক বলেন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, “যশোর রুটে সরাসরি বাস চালু হলে নির্দিষ্ট কিছু পরিবহনের যাত্রী কমে যাওয়ার ভয়ে প্রভাবশালী একটি পক্ষ নতুন সার্ভিস আটকে রাখছে।”
”পাইকগাছা-যশোর রুটে বিআরটিসি ও লোকাল বাস চালু হলে বিমানবন্দর ব্যবহার সহজ হবে এবং প্রশাসনিক সেবা দ্রুত মিলবে। পরিবহন সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত হয়ে অবিলম্বে এই রুট সচল করা সময়ের দাবি।”
এলাকাবাসীর দাবি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং বিআরটিসি বা লোকাল বাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















