
মো.রিয়াজুল সোহাগ, BDNEWS24.com
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়লেও চিকিৎসক ও বিএনপি নেতাদের তথ্যে মিলছে স্থিতিশীলতার বার্তা।
স্থিতিশীলতা ও দলের বক্তব্য গুজবে কান না দিতে আহ্বান:ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে জানান—খালেদা জিয়ার অবস্থা এখন স্থিতিশীল, এবং তিনি সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তিনি অনলাইন-অফলাইনে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
উন্নতির ইঙ্গিত:বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (১ ডিসেম্বর) বলেন,
“ খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে চিকিৎসা করছেন।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে তার অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি কিছুটা নড়াচড়া ও সাড়া দিতে পেরেছেন।
চিকিৎসা তদারকি:দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তার সার্বিক চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিচালনা করছে। সিসিইউতে সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যেই চলছে চিকিৎসা।
সংকট ও উদ্বেগ সামগ্রিক অবস্থায় সংকট:চিকিৎসকদের একটি অংশ জানায়, তার দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক জটিলতা—
- কিডনি সমস্যা
- লিভারজনিত সংকট
- ডায়াবেটিস
- আর্থ্রাইটিস
এসব মিলিয়ে সামগ্রিক অবস্থাকে অতি সংকটজনক হিসেবে দেখছেন তারা।
হঠাৎ অবনতি ও ভেন্টিলেশন সাপোর্ট:
সোমবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ-সমমানের এইচডিইউ থেকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়—যা লাইফ সাপোর্ট নয়, তবে উচ্চমাত্রার শ্বাস-সহায়তা।
বিদেশে নেওয়ার প্রসঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ—খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া জরুরি।
কিন্তু তার বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে বিমানযাত্রা এখনই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য—
আগে দেশে অবস্থাকে স্থিতিশীল করা, তারপর বিদেশ যাত্রা সম্ভব কি না বিবেচনা করা।
অন্যদিকে…
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্রুত আরোগ্য কামনা করে টুইট করেছেন।
- বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাসপাতাল এলাকায় ভিড় না করতে দলীয়ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- দেশব্যাপী দোয়ামাহফিল, উদ্বেগ আর অপেক্ষার মধ্যে চলছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা।চিকিৎসকদের আশা—স্থিতিশীলতা ধরে রাখা গেলে বাড়বে উন্নতির পথ।

















