
আর্থিক ডেস্ক: দেশের অর্থনীতিতে উদ্বেগজনক এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যমতে, সার্বিক মুদ্রাস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের উর্ধ্বেই ঘোরাফেরা করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে সবজি, ডিম ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বাজারে চলছে এক চরম অস্থিরতা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি, ডলারের তীব্র সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে মূল্যস্ফীতির এই লাগাম টেনে ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আয়ের সঙ্গে খরচের ব্যবধান দ্বিগুণ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি থেকে মাছ-মাংস—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। মাসের পর মাস ধরে নিত্যপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের কপালে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।বাজারে গেলে আগের মতো কিছুই কেনা যায় না। আগে যেখানে এক হাজার টাকায় পুরো সপ্তাহের বাজার হতো, এখন সেখানে মাত্র দু-দিনের জিনিসও ঠিকমতো মেলে না। আমাদের আয়ের তুলনায় খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।” মতিউর রহমান, একজন দিনমজুর।
মুদ্রাস্ফীতির এই চাপ বিশেষত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্যমতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি হওয়ায় গরিব মানুষের খাদ্যের সংস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতামত: কেন কমছে না মূল্যস্ফীতি?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি সহসা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ:ডলার সংকট ও আমদানি খরচ: ডলারের তীব্র ঘাটতি এবং বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে আমদানি নির্ভর পণ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল এবং কিছু কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রভাব ফেলছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচ বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের খুচরা মূল্যে যোগ হচ্ছে।
সরবরাহ–শৃঙ্খলে দুর্বলতা: বাজারে সিন্ডিকেট বা সরবরাহ–শৃঙ্খলে কোনো ধরনের কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি হলে তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সরকারের উদ্যোগ: ভর্তুকি ও মনিটরিং
এই কঠিন পরিস্থিতিতে সরকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে ভর্তুকি–ভিত্তিক তত্ত্বাবধানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রির মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগগুলো যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার পদক্ষেপ।
অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি এবং কার্যকর বাজার তদারকির বিকল্প নেই। পাশাপাশি, ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।”
এই সংক্রান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিবৃতি পেলে, আপনি কি সেটির আপডেট জানতে আগ্রহী?


















