মো.রিয়াজুল সোহাগ, নিউজ ডেস্ক |
দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর মাধ্যমে এ খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।
সমন্বয় কমিটির বৈঠকে সংস্কার পর্যালোচনা
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সপ্তম বৈঠকে এসব অগ্রগতির কথা জানানো হয়। বৈঠকে বিনিয়োগ বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকরের লক্ষ্যে নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।
বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বৈঠকে বলেন,
”প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সরাসরি মানুষের জীবিকায় প্রভাব ফেলতে পারে। শুল্ক বা বৈশ্বিক বাজার প্রবেশাধিকার আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, নিজেদের নীতি ও প্রক্রিয়ার ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এখানে দক্ষতা বাড়ালে তার সুফল তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান হবে।”
গতি ফিরছে বন্দরে, কমছে সময়
বৈঠকে জানানো হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্যোগে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ (এনএসডব্লিউ) চালুর ফলে কয়েক মাসেই সরাসরি সরকারি দপ্তরে যাতায়াত কমেছে আনুমানিক ১২ লাখের বেশি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক প্রবেশ ব্যবস্থা চালুর ফলে প্রবেশের সময় অন্তত ৯০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নগদবিহীন লেনদেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।
লুৎফে সিদ্দিকী এ সময় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) মডেল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের পুরোপুরি ডিজিটাল আবেদন ও পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও অনলাইন ব্যবস্থায় রূপান্তরে সহায়তার জন্য ‘এজেন্ট ডেস্ক’ চালু করেছে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
আলোচনায় আসা প্রধান সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনাসমূহ:
বৈঠকে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার সুফল ব্যবসায়ীরা সরাসরি পাবেন:
- প্রি-অ্যারাইভাল ক্লিয়ারেন্স: পণ্য আগমনের আগেই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়ানো।
- একক প্যাকেজ সেবা: নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য একক অনলাইন প্যাকেজ চালু করা।
- ডিজিটাল পেমেন্ট: চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনা চালু।
- সমন্বিত তদারকি: অনুমোদিত বিনিয়োগ প্রস্তাব যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য বিডা, বেজা, বেপজা ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যৌথ তদারকি নিশ্চিত করা।
রেকর্ড লিজ ও বিদেশি বিনিয়োগ
বিডা ও বেজা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমি লিজ চুক্তির সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। চীন, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সফল আউটরিচ মিশনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বড় বিনিয়োগ এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে কিছু দপ্তরে ডিজিটাল ব্যবস্থার পাশাপাশি সমান্তরালভাবে অফলাইন (কাগজে-কলমে) কার্যক্রম চালু রাখার প্রবণতাকে উন্নতির পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডা ও বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব ও প্রধানরা।
আরও পড়ু—-ন
সংস্কার নিয়ে আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে…


















