
রিয়াজুল সোহাগ,
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর মুছাপুর ইউনিয়নসহ সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের সার ও কীটনাশক সংকটের অবসান ঘটেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপে নতুন সাব-ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় ওই এলাকার অন্তত ২ হাজার প্রান্তিক কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
সম্প্রতি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’-এ মাঠপর্যায়ে সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশকের কৃত্রিম সংকট নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসার পরই তৎপর হয় জেলা প্রশাসন এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নতুন সাব-ডিলারশিপের প্রক্রিয়া আটকে ছিল। চলতি বছরের ০২ মার্চ জমা দেওয়া আবেদনটি প্রায় ছয় মাস ঝুলিয়ে রাখার পর সম্প্রতি গত আগস্টে তিনি বদলিজনিত বিদায় নেন। দায়িত্বে এমন অবহেলার পর তাঁর বদলি নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন জেগেছে।
তবে সংবাদ প্রকাশের পর নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) আশীষ কুমার কর-এর নির্দেশে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে গত মার্চে আবেদনকৃত ‘জাহাঙ্গীর মেম্বার বীজ ভান্ডার’ (স্বত্বাধিকারী: মোঃ আবদুর ছালাম)-কে সাব-ডিলারশিপের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে জেলার বৃহত্তম উপজেলা বেগমগঞ্জের বিশাল কৃষকগোষ্ঠীর সার ও কীটনাশক প্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার কৃষকের সার ও কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করছে। মাঠে যেকোনো অনিয়ম রুখতে তদারকি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
একই বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আবরারুল হক বলেন, “কৃষকরা যেন নির্ধারিত সরকারি দামে সার পান, তা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা উপপরিচালক আশীষ কুমার কর ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন স্পষ্টভাবে জানান, নোয়াখালীর কোনো কৃষককে সারের সংকটে পড়তে দেওয়া হবে না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের জিম্মি করার চক্রান্ত রুখতে জেলাজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
“দেশ বিদেশের আপডেট খবর জানতে চোখ রাখুন…















