
নিজস্ব প্রতিবেদক |
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে নয়াপল্টন। রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবার কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দলের অভিজ্ঞ ও ঝানু নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে মিত্র দলগুলোর সাথে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার মিশনেও সক্রিয় হয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উল্লেখ্য গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য এবং অভিজ্ঞ সংগঠক নজরুল ইসলাম খানকে। অন্যদিকে, রাজপথের লড়াকু নেতা ও দলের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে করা হয়েছে কমিটির সদস্যসচিব। এছাড়া কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। প্রধান সমন্বয়কের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের মাঠের পরীক্ষিত নেতাদের নির্বাচনী কমিটিতে রাখা দলের কৌশলগত অবস্থানেরই প্রতিফলন।
তারেক-শফিকুর বৈঠক: নতুন বার্তা
নির্বাচনী প্রস্তুতির সমান্তরালে চলছে রাজনৈতিক মিত্রদের সাথে সেতুবন্ধন তৈরির কাজ। ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে গেলেও বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল দেশ পুনর্গঠন ও নির্বাচনী ঐক্য।
বৈঠক শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করব।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে জাতীয় স্বার্থে বিএনপি ও জামায়াত আবারও খোলা মনে আলোচনায় বসবে।


















