স ম জিয়াউর রহমান, বিডিনিউজ24.com::
দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আইন অমান্য করে চলছে ৩০টির বেশি ইটভাটা, যার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে মাত্র দুটির। বন উজাড় করে কাঠ পোড়ানো এবং ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহারের মহোৎসব চললেও স্থানীয় প্রশাসনের ‘রহস্যজনক’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদীরা।
সরেজমিনে উপজেলার কাঞ্চননগর রেলস্টেশন সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, জিগজ্যাগ চিমনি থাকলেও জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে বনের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ট্রাকে ট্রাকে বনের কাঠ আসে এসব ভাটায়। মূলত বাজারে কয়লার দাম টনপ্রতি ১৬-২০ হাজার টাকা হলেও মাত্র ৫-৬ হাজার টাকায় কাঠ পাওয়া যাওয়ায় মালিকরা এই অবৈধ পথ বেছে নিয়েছেন।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনবসতির তিন কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু চন্দনাইশে অধিকাংশ ভাটাই গড়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে। এতে সহজে পাহাড়ের মাটি ও বনের কাঠ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে মালিকরা।
পরিবেশ সংগঠন ‘গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্স’-এর সদস্য সচিব স ম জিয়াউর রহমান বলেন, “ইটভাটার ধোঁয়া ও সালফারের কারণে কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে, জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। প্রশাসন রহস্যজনক কারণে এখানে চুপ, অথচ পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া বা লোহাগাড়ায় নিয়মিত অভিযান চলছে।”
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা। অভিযোগ রয়েছে, ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আগে একটি ভাটার মালিক থাকলেও বর্তমানে তিনি ৪টি ভাটার নিয়ন্ত্রণ করছেন। মালিকদের একটি অংশের দাবি, সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এই নেতা বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে রাখছেন। এমনকি তাঁর মালিকানাধীন ভাটায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সহজে প্রবেশ করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দোহাজারী রেঞ্জের বর্তমান রেঞ্জার মনোয়ার ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। অনিয়মের খবর সংগ্রহ করছি, দ্রুতই বনবিভাগের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, “অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি শিডিউল দেওয়া থাকে। সেই অনুযায়ী খুব শীঘ্রই চন্দনাইশে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আরও পড়ুন…
















