
🌐 কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি |
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি নৌঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘাট কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, টোকেনে যে ভাড়া লেখা আছে, সেটাই দিতে চাইলে ঘাটের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে নৌকায় উঠতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন। অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহে তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করলে ঘাট ইজারাদার পক্ষের লোকজন বাধা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শফি আলম নামে এক টিকিট মাস্টার জোরপূর্বক তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত যাত্রী নাঈম হোসেন বলেন, যাত্রী বেশি থাকার সুযোগে ঘাট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছিল। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার মধ্যেই সাংবাদিক ভিডিও করলে তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে নৌকা ছাড়বে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এ সময় আশপাশে থাকা যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ধারণকৃত ভিডিও দৈনিক কালেরকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও প্রকাশের পর জনচাপের মুখে সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই অতিরিক্ত আদায় করা ভাড়া যাত্রীদের ফেরত দিতে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি চান সাধারণ যাত্রীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন বলেন, টোকেনের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও এমন আচরণ করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
তবে উপস্থিত ইজারাদার পক্ষের লোকজন দাবি করেন, তারা উচ্চ মূল্যে ঘাট ইজারা নিয়েছেন এবং ভাড়া বেশি মনে হলে যাত্রীরা নৌকায় না উঠলেও সমস্যা নেই।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং ভিডিও দেখেছি। পোর্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও যাত্রী অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন…
সংবাদটি শেয়ার করুন।
মতামত দিন ।


















