
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্রের হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে রাত ৯টার দিকে থেতরাই ইউনিয়নের সুইচগেট বাজারের পশ্চিম পাশে সুইচগেট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন যুবক গাঁজা সেবন করছেন বলে সন্দেহ করেন স্থানীয় মিজানুর রহমান ও আলমগীর হোসেন। তাঁরা যুবকদের সেখানে গাঁজা সেবনে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এরই জের ধরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মোসাব্বির মুসা, মোখছেদ আলী, শাহ আলম ও রানা ইসলামসহ ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এলাকায় গিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। স্থানীয়রা এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
হামলায় ইয়াছিন আরাফাত (২০), নাজমুল ইসলাম (১৮), স্বাধীন ইসলাম (১৬), শাহ আলম এবং মুকুল মিয়া (৪২) আহত হন। এদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাতের পেটে এবং স্বাধীন ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া নাজমুল ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিন আরাফাত ও স্বাধীন ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অপর আহতদের মধ্যে নাজমুল ইসলামকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত ইয়াছিন আরাফাতের চাচা লিটন সরকার বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহারনামীয় চার আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) পুতুল কুমার মহন্ত। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন..


















