
কুমিল্লা প্রতিনিধি||
কুমিল্লা নগরীতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়া পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ইথান আহমেদ (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইথান ওই বিদ্যালয়েরই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং স্থানীয় সোনিয়া আক্তারের ছেলে।
**এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,** কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত বুধবার রাত থেকে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় পুরো এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে, রাতের ওই সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর দুপুরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই কর্মসূচির আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে জড়িয়ে পড়ে।ঠিক ওই সময়েই স্কুলের টিফিন বিরতি হওয়ায় শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ বাইরে বের হয়েছিল। আকস্মিক এই গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তার পিঠে গুলি লাগে এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গুলিবিদ্ধ সন্তানের জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা সোনিয়া আক্তার বলেন,
> “আমার ছেলে স্কুলের বিরতির সময় টিফিন খেতে বের হয়েছিল। তখন তার পিঠে গুলি লাগে। ও তো কোনো দোষ করেনি, ও শুধু স্কুলে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”এদিকে ঘটনার পর থেকে কাটাবিলসহ আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযান চলছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন,
“মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপু ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ওই শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
আরও পড়ুন…
















