
এ. কে. পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যার অভিযোগে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে নাঙ্গলকোটের চালক মেহেদী (১৮) এবং নিখোঁজ চালক আরমান হোসেন (১৫) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মানিক মূলত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালকদের টার্গেট করতেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের হত্যা করতেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় পুলিশ তাঁকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
যেভাবে উদঘাটিত হলো জোড়া হত্যার রহস্য
- মেহেদী হত্যা মামলা: গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোটের আতিয়াবাড়ী এলাকা থেকে চালক মো. মেহেদীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশে তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা মেহেদীকে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে মানিক ও সেলিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
- আরমান হত্যা ও কঙ্কাল উদ্ধার: মেহেদী হত্যা মামলার তদন্তকালে মানিকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সেটি গত ২৪ জুলাই নিখোঁজ হওয়া চালক আরমান হোসেনের। আরমান নিখোঁজের পর তাঁর অটোরিকশার কাটা অংশ উদ্ধার করা হয় এবং জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা জানান, রিকশাটি মানিক ও সেলিমের কাছ থেকে পান তাঁরা।
পরবর্তীতে গত ১২ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। আরমান অপহরণ মামলায় মানিক ও সেলিমকে রিমান্ডে নিলে তাঁরা স্বীকার করেন যে, আরমানকে হত্যার পর লাশ গুম করতে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মানিক আদালতে আরমান হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পূর্বের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা
পুলিশের তথ্যমতে, মানিক ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর শাহজাহান সাইমন (১৭) নামে অপর এক অটোরিকশাচালককে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করেন। লাশ গুম করতে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ফেলে রাখা হয়। লাকসাম থানার মামলায় গ্রেপ্তারের পর সে সময়ও মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যসমূহ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে আরও বিশদ বিবরণ জানা যাবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…















