
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান। চারদিকে সারি সারি কবর। এর মধ্যেই একটি কবরের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালেন এক বৃদ্ধা। দু’হাতে ঝাপটে ধরলেন কবরের মাটি। কান্নায় ভেঙে পড়লেন, বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠলো চারপাশ। তিনি শহীদ সোহেল রানার মা। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে বুক পেতে দেওয়া সেই তরুণের জননী। দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ খুঁজে পেয়েছেন কলিজার টুকরো ছেলের শেষ ঠিকানা।
ছেলের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না এই মা। অঝোরে ঝরছে চোখের জল। বিড়বিড় করে বলছিলেন, “বাবা সোহেল, তুই তো বলেছিলি তাড়াতাড়ি ফিরবি। পা টিপে দিয়ে ঘুম পাড়িয়েছিলি আমাকে। সেই যে গেলি, আর তো কথা বললি না বাবা!” শহীদ সোহেল রানার নানা স্মৃতির ডালি মেলে ধরে তার মা বলছিলেন, অভাবের সংসারে সোহেল ছিল তার বড় ভরসা। ছোটবেলার সেই দুরন্তপনা আর মায়ের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছিলেন সোহেল রানা। গুলিতে প্রাণ হারানোর পর তখন তাকে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। আজ ডিএনএ টেস্ট ও তদন্তের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ছেলের কবরের দেখা পেলেন এই শোকাতুর মা। উপস্থিত অন্য স্বজন ও সাধারণ মানুষের চোখও তখন ভিজে উঠেছিল। কবরের এক কোণে মা বসে আছেন নিশ্চল হয়ে, যেন মাটির নিচে শুয়ে থাকা ছেলের হৃদস্পন্দন শোনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সোহেল আর ফিরবে না, ফিরবে না সেই আদরের ডাক।
আরও পড়ুন……
Facebook Comments Box


















