
মো.রিয়াজুল সোহাগ,অর্থনীতি প্রতিবেদক:
বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের (এস আলম) বিদেশে গড়ে তোলা বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ঘিরে আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাইপ্রাস ও সিঙ্গাপুরের পর এবার মালয়েশিয়ায় তাঁর মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা থাকা দুটি বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক মানের হোটেলের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এজ মালয়েশিয়া’-র সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার্সের কাছেই অবস্থিত তারকা মানের বিলাসবহুল হোটেল ‘রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার’ এবং এর ঠিক পাশেই অবস্থিত ‘ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার’। এই দুটি হোটেলের মালিকানার পেছনে এস আলম গ্রুপের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা ও তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কোনো বৈধ অনুমতি বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই অফশোর কোম্পানি ও জটিল কর্পোরেট কাঠামোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে হোটেল দুটি ‘ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল’ (পূর্বনাম ক্যানালি লজিস্টিকস) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে, যার সাথে এস আলম গ্রুপের গভীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হোটেল দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ৮৫০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত মে মাসের মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এস আলমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কয়েকটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সাইপ্রাসে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর যৌথ মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে। একই সময়ে ঋণখেলাপি ও আর্থিক অনিয়মের এক মামলায় বাংলাদেশের আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর পাশাপাশি সিঙ্গাপুরেও তাঁর প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের তদন্তকারী সংস্থাগুলো দাবি করছে, দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের অর্থ বিভিন্ন লেয়ারিং বা স্তরের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এই অবৈধ অর্থের উৎস ও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ শনাক্ত করতে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সাথে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা (MLA) বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, আগামী ২১ ও ২২ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা রয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, শ্রমবাজার ও বিনিয়োগের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় থাকা এস আলমের এই বিশাল অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসতে পারে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এস আলম বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যকে বাংলাদেশে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। মালয়েশিয়ার হোটেলগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে গ্রুপটির স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















