
১২০০ টাকার গ্যাস ২৫০০,
অর্থনৈতিক প্রতিবেদন |
সারা দেশে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও নৈরাজ্য চলছে। সরকার নির্ধারিত দামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাজারে ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার টাকারও বেশি বাড়তি নিলেও দোকানের সামনে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ। গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন সংকটে রান্নার চুলা থেকে শুরু করে যানবাহন—সব খাতেই হাহাকার চলছে।
বর্তমানে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা এক ধরনের জিম্মি দশা তৈরি করেছেন। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, “অতিরিক্ত টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক দোকানে স্টক থাকলেও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
বাজারের এই চরম অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ও আগামী মাস মিলিয়ে দেশে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার (সাড়ে তিন লাখ) মেট্রিক টন এলপিজি আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি কোম্পানি চলতি মাসে ১ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আগামী মাসে আমদানির এই পরিমাণ আরও বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিপুল পরিমাণ এই গ্যাস বাজারে সরবরাহ শুরু হলে কৃত্রিম সংকটের অবসান ঘটবে এবং পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই এলপিজির দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এলপিজি আমদানির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা সময়মতো সম্পন্ন হলে রমজানের আগে স্বস্তি ফিরবে। তবে একই সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন যাতে কেউ অবৈধ মজুত বা কারসাজির সুযোগ না পায়।
আরও পড়ুন…
Facebook Comments Box


















