
স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
যমুনা অয়েল কোম্পানির ফতুল্লা ডিপো থেকে কোনো ডিজেল গায়েব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ট্যাংকের ক্যালিব্রেশনজনিত কারণে ডিজেলের পরিমাণে সামান্য হেরফের দেখা গেলেও সেটি ডিপোতেই রক্ষিত রয়েছে।
সম্প্রতি ফতুল্লা ডিপো থেকে ডিজেলের পরিমাণগত অমিল দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে তেল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাইপলাইনে শিনকেস, মিটারে যান্ত্রিক ত্রুটি বা তাপমাত্রাজনিত কারণে এ ধরনের তারতম্য হতে পারে।
সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম–ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্প (সিডিপিএল) এর আওতায় চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে টেস্ট ও ট্রায়াল বেসিসে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহের সময় সব ডিপোতেই কিছু পরিমাণ শর্ট বা তারতম্য দেখা যায়।
সূত্র জানায়, যমুনা অয়েলের দুটি ট্যাংক—নং ২২ ও ২৩—এই পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত। ২২ নম্বর ট্যাংকটি পুরনো হওয়ায় ২০২৫ সালের মার্চে মেরামতের পর পুনরায় ক্যালিব্রেশন করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিজেল সরবরাহ শেষে হিসাব নিরূপণে প্রায় ৬০ হাজার লিটারের গড়মিল ধরা পড়ে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিপো কর্তৃপক্ষ পুনরায় ক্যালিব্রেশনের আবেদন জানায়। যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ ২৮ সেপ্টেম্বর সিডিপিএল, পিটিসি পিএলসি ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের নিয়ে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে এবং মেসার্স কর্ণফুলী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে রি-ক্যালিব্রেশন সম্পন্ন করে। বর্তমানে বিএসটিআই অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ডিপো সংশ্লিষ্টরা জানান, “রি-ক্যালিব্রেশন চার্ট অনুমোদনের আগেই কেউ কেউ তেল গায়েব হয়েছে বলে প্রচার চালাচ্ছে, যা সত্য নয়।” তারা দাবি করেন, চার্ট অনুমোদন পেলে সব বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে।
ক্যালিব্রেশন প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস. এম. নুরুল হক–এর স্বত্বাধিকারী আন্দালিব বিন হক বলেন, “সক্ষমতার ক্ষেত্রে তারতম্য হতেই পারে। ৬০ হাজার লিটার কমার বিষয়টি নিশ্চিত নয়, বরং মুদ্রণজনিত ভুলও হতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপপ্রচার করা অনুচিত।”
এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরত-ই ইলাহী গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযোগের তদন্তে কমিটি কাজ করছে। তারা সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। তার ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। আমদানিকৃত তেল চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইন, নৌ ও সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
















