
জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান: বিয়ে বললেই আমাদের সমাজে পাত্রের আয়-রোজগার, বাড়ি-গাড়ি এবং বংশমর্যাদা নিয়ে শুরু হয় চুলচেরা বিশ্লেষণ। সংসার পরিচালনার জন্য উপার্জনের সামর্থ্য জরুরি হলেও, ফিকহবিদ ও ইসলামি গবেষকদের মতে পাত্র নির্বাচনের আসল ও স্থায়ী মাপকাঠি হওয়া উচিত ছেলেটির ‘দীন ও চরিত্র’।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক সহিহ হাদিসের বরাতে ফিকহবিদগণ উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তির দীন ও চরিত্রে সন্তুষ্ট হওয়া যায়, তাকে পাত্র হিসেবে গ্রহণ করা উচিত; অন্যথায় সমাজে নানা ফেতনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে আমাদের সমাজে ‘দীনদারি’ শব্দটিকে খুব সংকীর্ণভাবে দেখা হয়। কেবল বাহ্যিক ইবাদত, দাড়ি বা পোশাকই দীনদারির একমাত্র প্রমাণ নয়। ইমাম গাজালি (রহ.) ও অন্যান্য ফকিহদের মতে, মানুষের চরিত্র, লেনদেনের সততা এবং পরিবারের সাথে প্রাত্যহিক আচরণই তার দীনদারির প্রকৃত পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।” (তিরমিজি)
ইসলামে উপার্জনের সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সম্পদকে পাত্রের স্থায়ী যোগ্যতা ধরা হয়নি, কারণ সম্পদ পরিবর্তনশীল। সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আল্লাহর কাছে বংশ বা সামাজিক মর্যাদা নয়, বরং ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহভীতিই শ্রেষ্ঠত্বের আসল মাপকাঠি।
এছাড়া পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
- রাগ নিয়ন্ত্রণ ও মেজাজ: যে ব্যক্তি রাগের মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখতে পারে না, সে দাম্পত্য জীবনে নারী নির্যাতন বা অশুভ আচরণের কারণ হতে পারে।
- মেয়ের সম্মতি: অভিভাবক পাত্র নির্বাচনে মূল ভূমিকা রাখলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মেয়ের সম্মতি নেওয়া ইসলামে আবশ্যক। কোনো মেয়ের ওপর অনিচ্ছাকৃত বিয়ে চাপিয়ে দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একটি মেয়ের প্রকৃত নিরাপত্তা কোনো বড় অট্টালিকা বা বিশাল সম্পদে নয়; বরং এমন একজন দীনদার ও সৎ জীবনসঙ্গীর কাছে, যার কাছে তার সম্মান, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















