
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিন্নাত খাতুনকে (১২) ধর্ষণ ও হত্যার বিচার নিয়ে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার ৮ মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে এবং পাল্টা মামলা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে শিবগঞ্জ বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদকর্মীদের সামনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত জিন্নাতের মা নিলুফা বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে স্থানীয় মৃত হযরত আলীর ছেলে আলী হোসেন (৪৫) ও তার সহযোগীরা জিন্নাতকে নিজ ঘরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার শুরু করলে তাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে এবং ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পপি নামের এক স্থানীয় নারী দরজার তালা খুলে অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে সরাসরি সহায়তা করেন বলেও দাবি করা হয়।
নিলুফা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তার স্বামী জিয়ারুল হকের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। পরবর্তীতে থানায় একাধিকবার ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বিচার পাওয়ার বদলে গত আট মাস ধরে তারা ক্রমাগত প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। উপরন্তু, পার পেয়ে যেতে অভিযুক্ত পক্ষ উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের নামেই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা ঠুকে দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জিন্নাতের ফুপু মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি নিজ চোখে জিন্নাতের মরদেহ দেখেছি। তার শরীরের নিম্নাংশ ও মুখ খোলা ছিল, শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় কাঁচা দাগ ছিল। যা দেখে এটি যে একটি নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না।”
তবে পরিবারের আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা তন্ময় কুমার। তার দাবি, “এ ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টও চলে এসেছে।” অন্যদিকে শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনিসুর রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করায় বিষটি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নই। বিস্তারিত জানার পর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জিন্নাতের ফুপা শোয়েব আলী, ফুফাতো ভাই রুবেল আলী, চাচা জলিল উদ্দিন, ইউসুফ আলী ও ছোট বোন জান্নাতীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অবুঝ সন্তানের করুণ মৃত্যুর সঠিক তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের ওপর নামিয়ে আনা হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা ও হুমকির হাত থেকে স্থায়ী নিস্তার চান স্বজনরা।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















