
স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী||
ফেনীর দাগনভূঞায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে মা ও মেয়েকে পৃথকভাবে ধর্ষণের সেই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলায় তিন আসামিকে সাজা দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ৮ বছর আইনি লড়াই ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর এক সহযোগীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৫ই জুলাই) বিকেলে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও একজন পলাতক রয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুণী গ্রামের মনু কাজী বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং একই এলাকার জেলে বাড়ির প্রভাত কুমার দাসের ছেলে নিপু কুমার দাস। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে একই বাড়ির মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আজাদকে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আজাদ ও নিপু কুমার দাস কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও মূল হোতা সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ৮ই আগস্ট রাতে। দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ বারাহীগুণী গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে হানা দেয় একদল বখাটে। মূল আসামি সাইফুল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে ঘরে ঢুকে প্রথমে প্রবাসীর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় পুত্রবধূকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীর বৃদ্ধা শাশুড়ি (মেয়ের মা) এগিয়ে এলে নরপশুরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ওই বৃদ্ধাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি সেতুর ওপর নিয়ে আজাদ ও নিপু কুমার দাস ওই বৃদ্ধাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে।
এই অমানবিক ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১১ই আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান দাগনভূঞা থানার ততকালীন এসআই আবদুর রহীম। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০শে জানুয়ারি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ২৪শে মার্চ উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত বর্বর ঘটনা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল এবং সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাল।”
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















