মো. রিয়াজুল সোহাগ,সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট|
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। যে লেবাননকে একসময় বলা হতো ‘প্রাচ্যের প্যারিস’, আজ তা কেবলই ধ্বংসস্তূপ আর লাশের মিছিলে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিনের নির্বিচার ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে—যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই নিরপরাধ নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যখন ধ্বংসাবশেষ থেকে শিশুদের নিথর দেহ বের করার ছবি প্রচার করছে, তখন তথাকথিত সভ্য দুনিয়া আর বিটিভি’র খবরের শিরোনামে তা কেবলই একটি সংখ্যা হয়ে ধরা দিচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রক্তক্ষরণ থামবে কবে? ইসরায়েলি বাহিনীর এই ‘নির্বিচার তাণ্ডব’ কি কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ? মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে অন্য কথা। আবাসিক ভবন, হাসপাতাল আর সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থলগুলো আজ আগুনের গোল্লায় পরিণত হচ্ছে। বিশ্বরাজনীতির মোড়লরা যখন ড্রয়িংরুমে বসে শান্তির ললিত বাণী শোনান, তখন লেবাননের মাটিতে ঝরছে সাধারণ মানুষের তপ্ত রক্ত।
ইসরায়েলের এই আগ্রাসন কেবল একটি ভূখণ্ডের ওপর হামলা নয়, এটি আন্তর্জাতিক আইন আর মানবিকতার গালে চরম চপেটাঘাত। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দাদাগিরি আর কতকাল মুখ বুজে সহ্য করবে বিশ্ববিবেক? জাতিসংঘের প্রস্তাবনাগুলো আজ যেন কেবলই কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে।
আমরা সাংবাদিকরা যখন ডেস্কের ওপারে বসে এসব দুঃসংবাদ লিখি, তখন কলম থেমে যায় ব্যথায়। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন কেবল লেবাননেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে গিলে খাবে। এখনই সময়—বিশ্বনেতাদের উচিত কেবল নিন্দা নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই গণহত্যা বন্ধ করা। নতুবা ইতিহাসের কাঠগড়ায় বর্তমান প্রজন্মকে ‘নীরব দর্শক’ হিসেবে জবাবদিহি করতে হবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…

















