
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী|
নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে পবিত্র রমজান ঘিরে ইফতার সামগ্রীর বাজারে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। গাজর, শসা আর লেবুর দামে যেন ‘আগুন’ লেগেছে। ইফতারের অতিপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের আকাশচুম্বী দাম শুনে সাধারণ ক্রেতাদের মাথায় হাত। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজার ঘুরে দেখা যায়, দামের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে দাম শুনে পণ্য না কিনেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে খালি হাতে ফিরছেন।
আকাশচুম্বী দামের পরিসংখ্যান: বাজার ঘুরে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে শসার দাম কেজিপ্রতি ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০-১০০ টাকায়। মাঝারি মানের গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৩০-৪০ টাকার নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা লেবুর বাজারে; এক হালি লেবুর দাম মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ একটি মাঝারি সাইজের লেবুর দাম পড়ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা! অথচ এক সপ্তাহ আগেও এক হালি লেবু মিলত ৩০-৪০ টাকায়।
ক্রেতাদের ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাস: চৌমুহনী রেলগেট বাজারে আসা আবুল কালাম নামে এক দিনমজুর আক্ষেপ করে বলেন, “সারা দিন রোজা থাইক্যা এক গ্লাস লেবুর শরবত খামু, হেই সাধ্যও আমগো নাই। এক হালি লেবুর দাম দিয়া আগে ১ কেজি চাল কিনতাম।” মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের অভিযোগ, রমজান শুরু হতে না হতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
বাজার চিত্র: সরজমিনে দেখা গেছে, বাজারে পণ্যের কোনো অভাব নেই, স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইফতার সামগ্রী। কিন্তু দাম হাঁকা হচ্ছে অস্বাভাবিক। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে বলে তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
ইফতারের প্রয়োজনীয় পণ্যের এমন চড়া দামে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারে আসা সাধারণ মানুষের দাবি, এখনই যদি প্রশাসন বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই রমজানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকবে না।
আরও জানতে চোখ রাখুন…
















