
মো.রিয়াজুল সোহাগ,
বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। নতুন বছরের শুরুতেই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে দেশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ে ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৪.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পোশাক খাতের জয়জয়কার:
রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফনের মূল কারিগর বরাবরের মতোই তৈরি পোশাক খাত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১১.৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে সফলতার ফলে উদ্যোক্তারা এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের পোশাকের প্রতি বিশ্ব ক্রেতাদের আস্থা ফিরে আসছে।
চামড়া ও প্লাস্টিক পণ্যেও সুসংবাদ:
শুধুমাত্র পোশাক নয়, রপ্তানি আয়ের পালে হাওয়া লেগেছে চামড়া ও প্লাস্টিক পণ্যেও। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারি মাসে চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক শিল্পে সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
পিছিয়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য:
সার্বিক রপ্তানি বাড়লেও কিছুটা উদ্বেগের কথা শুনিয়েছে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য খাত। গত বছরের তুলনায় এই খাতে আয়ের হার কিছুটা নিম্নমুখী। কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে এই খাতটি প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মত:
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জানুয়ারির এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এই ধারা বজায় রাখতে হলে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ (Diversification) এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা উদ্যোক্তাদের সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।
বাণিজ্যিক মহলের মতে, নতুন বছরের এই শুরুটা যদি সারা বছর বজায় থাকে, তবে ২০২৬ সাল হবে বাংলাদেশের রপ্তানি ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি বছর।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















