
কেন?এই অনিশ্চয়তা?
উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি,রংপুর-কুড়িগ্রাম:
এককালে যে তিস্তা তার উত্তাল ঢেউয়ে কূল ভাঙত, সেই তিস্তা এখন কেবলই ধু-ধু বালুচর। নাব্যতাসঙ্কটে অস্তিত্ব হারাতে বসা এই নদীকে ঘিরে সরকারের নেওয়া ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ যেন এখন খাতা-কলমেই বন্দি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় চরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের মনে বাড়ছে ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস। পানিবণ্টন সমস্যার জট আর অর্থায়নের দোটানায় বিশাল এই প্রকল্পটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, নদীর মূল প্রবাহ এখন সরু নালার মতো। পানি না থাকায় মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে কয়েক হাজার জেলের। নৌকার বদলে মাইলের পর মাইল তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে চরের বাসিন্দাদের। মালামাল পরিবহনে নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা, ফলে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকরা।গড্ডিমারী চরের ষাটোর্ধ্ব কৃষক আজমত আলী মানবজমিনকে বলেন, “আগে এই সময় নদীতে পানি থাকত, আমরা ধান-তামাক আবাদ করতাম। এহন নদীর চরে শুধু বালু। শুনছিলাম নদী খনন হইব, বাঁধ হইব—কই কিছুই তো দেখি না। আমাগো কপাল কি আর ফিরব না?”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাড় আট হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তির সমাধান না হওয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক জটিলতায় বিদেশী অর্থায়ন পেতে দেরি হচ্ছে। দফায় দফায় সমীক্ষা চালানো হলেও মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এদিকে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ ভাঙন, আর শুকনো মৌসুমে মরুভূমি।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ড্রেজিং বা খনন দিয়ে এই সংকট কাটবে না। টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করাই হলো মূল সমাধান। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ঝুলিয়ে রাখলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য অদূর ভবিষ্যতে এক বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই দাবি—প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, দ্রুত কাজ শুরু হোক মহাপরিকল্পনার। না হলে বালুচরেই চাপা পড়ে যাবে তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
আরও জানতে চোখ রাখুন…


















