আইটি প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে অপতথ্য, গুজব এবং সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা-র সাথে একটি বিশেষ ‘মনিটরিং চুক্তি’র দ্বারপ্রান্তে প্রশাসন। এর মাধ্যমে কনটেন্ট মডারেশন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
কী আছে এই চুক্তিতে? সরকার ও মেটা-র মধ্যে হতে যাওয়া এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ‘রিয়েল টাইম মনিটরিং’। বর্তমানে কোনো আপত্তিকর বা গুজব ছড়ানো পোস্ট সরানোর জন্য সরকারকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়, যা দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি করে। নতুন চুক্তির আওতায়:
দ্রুত শনাক্তকরণ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে গুজব বা উস্কানিমূলক পোস্টগুলো দ্রুত শনাক্ত করা হবে।
সরাসরি যোগাযোগ: মেটার একটি বিশেষ টিম সরাসরি সরকারের নির্দিষ্ট সেলের সাথে সমন্বয় করবে।অ্যাকশন: দেশের আইন ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন কনটেন্ট রিপোর্ট করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা থাকবে।
কেন এই কড়াকড়ি? সম্প্রতি দেখা গেছে, ছোটখাটো কোনো গুজব ফেসবুকের মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা এবং ধর্মীয় উস্কানি বন্ধ করতেই সরকার এই ‘সেফটি নেট’ তৈরি করতে চাইছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।
জনমনে সংশয়: নজরদারির নতুন জাল? সরকারের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশের মনে প্রশ্ন—এই চুক্তির ফলে কি বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হবে? নাকি এটি ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের কোনো নতুন কৌশল? সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, গুজবের সংজ্ঞায় যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তবে এই মনিটরিং সিস্টেমের অপব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ফেসবুকের সাথে এই অংশীদারিত্ব কেবল অপরাধ দমনে কাজ করবে। মেটা-র নিজস্ব গাইডলাইন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন—উভয়কেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে।
আরও জানতে চোখ রাখুন…