নোয়াখালীর চৌমুহনীতে দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতা ও নানা প্রতিকূলতার জাল ছিন্ন করে নতুন আঙ্গিকে মাঠে ফিরেছে নব্বই দশকের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পদ্ম কুঁড়ি আসর’। সংগঠনটির এই পুনর্জাগরণ ও চলমান ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, টুর্নামেন্টে একঝাঁক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত ‘পদ্ম কুঁড়ি একাদশ’ তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও চৌমুহনী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম হাজী মো. সোবহান মিয়ার সুযোগ্য সন্তান মো. জাফর আহম্মেদ নব্বইয়ের দশকে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ সময় পর তাঁরই সুযোগ্য সন্তান, কলেজ শিক্ষার্থী মো. তৌহা জাফর পারিবারিক ও সামাজিক এই ঐতিহ্যের হাল ধরেছেন। মূলত তরুণ ও যুব সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতেই এই উদ্যোগ।
বর্তমানে সংগঠনের নিজস্ব মাঠে চলছে বর্ণাঢ্য ফুটবল টুর্নামেন্ট লিগ। মাঠের লড়াইয়ে ইতিমধ্যে এর প্রতিফলনও দেখা গেছে ২১ জানুয়ারী সন্ধ্যায় হাইভোল্টেজ এক ম্যাচে পদ্ম কুঁড়ি একাদশ ২-০ গোলে জয়লাভ করে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা ‘ভাই বন্ধু একাদশ’-এর মুখোমুখি হবে। দলটিতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ায় তৌহা জাফরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা।
খেলাধুলার এই আসরটি কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ‘মাদকের সঙ্গে বিরোধ করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি’—এই বলিষ্ঠ স্লোগানকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে সংগঠনটি। এলাকার বিশিষ্টজন ও দেলোয়ার ফুডসের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার মিয়ার ছোট ভাই জাফর আহম্মেদের উত্তরসূরিদের এই সাহসী নেতৃত্ব এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে মাঠের খেলার বিকল্প নেই। মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন…
















