
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রয়াণে দলের অভিভাবকহীনতা কাটাতে এবং সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এবং মা’র মৃত্যুর শোকাতুর আবহেই দলের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্বভার তাঁর কাঁধে এলো।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারা অনুযায়ী, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১৮ সাল থেকেই তারেক রহমান ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দল পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এখন থেকে তিনি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবেই অভিহিত হবেন। দলের স্থায়ী কমিটির নীতি নির্ধারকগণ ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন পুরোপুরি নির্বাচনী আমেজে। তিনি ইতিমধ্যে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে মা’র মৃত্যুতে এখনো শোকের ছায়া কাটেনি বিএনপিতে। দেশজুড়ে চলমান সাত দিনের শোক কর্মসূচির মধ্যেই তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য মিত্র দলগুলোর সাথে নির্বাচনী সমঝোতা এবং তরুণ ভোটারদের মন জয় করা হবে তাঁর সামনের বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন,,,

















