
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নির্বাহী সম্পাদক,বিডিনিউজ24:
বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা সমসাময়িক রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। এই পটপরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন দুই জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—একজন বিশ্বনন্দিত অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যজন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এক অনন্য মাত্রার যোগ করেছে।
ড. ইউনূস ও ভোটাধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ ও উদ্দেশ্য হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা। ড. ইউনূস কেবল বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সম্মান পুনরুদ্ধার করেননি, বরং প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের মনে এই বিশ্বাস জাগিয়েছেন যে, এবার তারা সত্যিকারের ভোটাধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আর নিরপেক্ষতাই হতে পারে গণতন্ত্রের টেকসই ভিত্তি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তারেক রহমানের ছবি ও কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে এক নতুন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আভাস পাওয়া যায়। তার গম্ভীর ও সংকল্পবদ্ধ মুখাবয়ব কেবল একটি দলের নেতৃত্বকেই তুলে ধরে না, বরং সাধারণ মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এক প্রচ্ছন্ন প্রতিশ্রুতিকেও ইঙ্গিত করে। তাঁর অনুসারীদের মুখে ধ্বনিত সেই স্লোগান—”তুমি বাঙালী জাতির শেষ ভরসা”—এখন কেবল একটি দলীয় আবেগ নয়, বরং দীর্ঘ বঞ্চনার শিকার তৃণমূল মানুষের কাছে একটি শক্তিশালী আদর্শিক প্রত্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সুসংগঠিত নেতৃত্ব আগামীর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্যমূলক পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রত্যাশা ও আগামীর পথ
—”ড. ইউনূস পথ দেখাচ্ছেন এবং তারেক রহমান স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।” একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে যখন বর্তমানের সংস্কার এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন একই সমান্তরালে চলে! ড. ইউনূসের প্রাজ্ঞ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ আর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সার্থক মিলনেই সম্ভব একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া।
বাঙালী জাতি আজ অধীর আগ্রহে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়, যেখানে তারা নির্ভয়ে নিজের ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ড. ইউনূস এবং তারেক রহমানের এই দ্বৈত ভূমিকা যদি সফলভাবে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তবেই এই গণ-অভ্যুত্থানের সার্থকতা পূর্ণতা পাবে।
আমরা বিশ্বাস করি, অন্ধকার কেটে গিয়ে ভোটাধিকার ও সুশাসনের সূর্য আবারও বাংলাদেশের আকাশে উদিত হবে।


















