শহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইমিগ্রেশন ও মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ এবং প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেছেন—বাংলাদেশের বর্তমান বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে একটি সাধারণ ‘সুস্থতা কামনার বার্তা’ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধের যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হতে পারে। তার মতে, প্রতিপক্ষ অসুস্থ হলে তার সুস্থতা কামনা করা শুধু সৌজন্য নয়—এটি সভ্যতা ও রাষ্ট্রনীতির মৌলিক মানবিক প্রকাশ।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,

“মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধই সভ্যতার ভিত্তি। রাজনৈতিক মতভেদ যতই থাকুক—অসুস্থ প্রতিপক্ষের জন্য শুভকামনা জানানো মানবিক নৈতিকতার অংশ। নেতৃত্বের মহত্ব এখানেই পরীক্ষা হয়।”শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার পারস্পরিক ইতিহাস তুলে ধরা
ব্যারিস্টার মনোয়ার স্মরণ করিয়ে দেন—স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া একসঙ্গে সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও অতীতে সমবেদনা ও সৌজন্যের উদাহরণও রয়েছে।
তিনি বলেন—
“বেগম জিয়ার ছেলের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। তারেক রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল। পরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়লেও মানবিকতার সেই স্মৃতিগুলো অমূল্য।”
২১ আগস্ট হামলা, ৩২ নম্বর, মামলা–মোকদ্দমা, রাজনৈতিক দমন–পীড়ন—সবকিছু নিয়েই দুই দলের দ্বন্দ্ব গভীর হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তার মতে, এই ইতিহাস মানবিক আচরণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।রাজনৈতিক বাস্তবতা—দুই দলের অবস্থান এবং বিভক্ত সমাজ
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান, বিএনপি নেতাদের বিদেশে থাকা বা মামলাজট, এবং পরস্পরকে দোষারোপ—এসবই রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও বিভক্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরো বলেন—
“দেশ কি দলের চেয়ে ছোট হয়ে গেছে? দল কি নেতার চেয়ে বড় হতে পারছে না?—এই প্রশ্নগুলো আজ সাধারণ মানুষের মনেও।”বিশ্ব নেতৃত্বের উদাহরণ—সৌজন্যের শক্তিব্যারিস্টার মনোয়ার ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন—
-
হযরত মুহাম্মদ (সা.) শত্রুভাবাপন্ন অসুস্থ এক ইহুদি মহিলাকে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন
-
নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিপক্ষের প্রতি উদারতা দেখিয়ে বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন
-
বাজপেয়ী–সোনিয়া গান্ধী ভারতীয় রাজনীতিতে কঠোর বিরোধিতার মাঝেও সৌজন্য বজায় রেখেছিলেন
-
জাসিন্ডা আরডার্ন সমবেদনা ও মানবিক আচরণ দিয়ে বিশ্বনেতৃত্বের নতুন মাত্রা দেখিয়েছেন
তার মতে, এগুলো রাজনৈতিক নৈতিকতার সর্বোচ্চ আদর্শ।শব্দে শক্তি আছে—মানবিকতার ভাষা বলার সাহস কমে গেছে”
ব্যারিস্টার মনোয়ার বলেন—
“আমাদের দেশে এখন এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে সবাই কঠোর রাজনৈতিক ভাষা বলতে পারে, কিন্তু মানবিকতার ভাষা বলার সাহস কমে গেছে। অথচ একটি ছোট মানবিক বার্তাই সমাজকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে।”
তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌজন্য, সহনশীলতা ও মানবিকতা রাজনীতিকে স্বাভাবিকীকরণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। জীবন–মৃত্যুর প্রশ্নে অভিমান নয়—মানবিকতা”
অসুস্থতার মতো সংকটময় অবস্থায় প্রতিপক্ষকে মর্যাদা দেওয়াই সভ্য রাজনীতির পরিচয়—এ মন্তব্য করে তিনি বলেন
“কেউ আমাকে ভালো ব্যবহার করেনি বলে আমিও করব না—এটি নেতৃত্বের মানসিকতা হতে পারে না। নেতৃত্ব মানেই উদারতা।”
তার বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্যও উঠে আসে—
“যখন জয় স্বীকার করেন যে বেগম জিয়ার প্রতি ন্যায়বিচার হয়নি—তখন মানবিক আচরণের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়।”শেষ কথা—উদারতাই রাষ্ট্রনায়কের পরিচয়
ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন—
“একটি সুস্থতা কামনার বার্তাও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে। এখনই সময় মানবিকতার, এখনই উদারতা দেখানোর। এটাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক বার্তা।”
















