
মো.রিয়াজুল সোহাগ, নিউজ ডেক্সঃ Updatebdnews24.com
মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সৎপথের দিশা দিতে যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। ইসলামী ঐতিহ্যে প্রচলিত মতে, পৃথিবীতে মোট ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী-রাসূল আগমন করেছেন, যারা মানবতার কল্যাণে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে স্বীকৃত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের ধারা পূর্ণতা পায় নবী-রাসূলের সংখ্যা: ইসলামী বিশ্বাসের ঐতিহ্য
ইসলামী দলিল ও ঐতিহ্যে প্রচলিত সংখ্যা—
মোট নবী-রাসূল: ১,২৪,০০০
এ সংখ্যা দুর্বল হাদীস থেকে প্রচলিত হলেও, এটি মুসলিম সমাজে আল্লাহর অসংখ্য পথপ্রদর্শকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক।
কুরআনে উল্লেখিত নবী:কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

কুরআনে বলা হয়েছে“আমি এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি, যাদের কথা আমি তোমাকে জানাইনি।” (সূরা আন-নিসা: ১৬৪)এ থেকে স্পষ্ট—মানবজাতির বিভিন্ন সমাজে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করা হয়েছে।
সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষ নবী—হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)
১ লক্ষ ২৪ হাজার নবীর মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মর্যাদা সর্বোচ্চ, যা কুরআন ও সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণসমূহ
মর্যাদা বর্ণনা খাতামুন নাবিয়্যীন তিনি শেষ নবী—কুরআন (৩৩:৪০) অনুযায়ী তাঁর পর আর কোনো নবী আসবেন না।
আল-কুরআন প্রাপ্তি সর্বশেষ, পূর্ণাঙ্গ, অবিকৃত আসমানী কিতাব—আল-কুরআন তাঁর উপর নাযিল হয়েছে।
শাফা’আতে কুবরা কিয়ামতের দিন সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারিশকারী হবেন।
রাহমাতুল্লিল আলামীন তিনি শুধু মুসলমানদের নয়, সমগ্র জগতের জন্য রহমত (আনবিয়া: ১০৭)।
সর্বোচ্চ আদর্শ “রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।” (আহযাব: ২১)
তাঁর আগমনের ধর্মীয় ও মানবিক তাৎপর্য
*ক. অন্ধকার যুগে মানবতার আলোর দিশা*
অন্যায়, বৈষম্য, নারী অবমাননা, দাসত্ব—এসবের বিরুদ্ধে এক মহান বিপ্লবের সূচনা করেন।
*খ. পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা*
কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে মানবতার জন্য পূর্ণাঙ্গ নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা দেন।
**গ. শ্রেষ্ঠ উম্মত সৃষ্টি*
তিনি এমন একটি উম্মত সৃষ্টি করেন, যারা মানবতার সামনে সত্যের সাক্ষ্য দেবে।
*ধর্মীয় অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ: “সুবহানাল্লাহ”
১ লক্ষ ২৪ হাজার নবীর মাঝে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করলে একটি ঈমানী অনুভূতি জাগে
“সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ কত মহান!”
এটি মহান আল্লাহর পরিপূর্ণতা ও প্রিয় নবীর মর্যাদা উপলব্ধির প্রতীক।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) শুধু একজন নবী নন—
তিনি মানবজাতির মুক্তির আলোকবর্তিকা, শ্রেষ্ঠ আদর্শ, পরিপূর্ণ পথনির্দেশক এবং আল্লাহর শেষ রাসূল।
তাঁর জীবনাদর্শ, সুন্নাহ ও আল-কুরআনের অনুসরণেই রয়েছে দুনিয়ার শান্তি এবং আখিরাতের মুক্তি।


















