
চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার দশঘরিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দশঘরিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাজারের ৩২টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। আমাদের প্রাথমিক হিসাবে ন্যূনতম পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে করে ৬০টির মতো পরিবার পথে বসে গেছে। অনেকেই তাদের নিজেদের শেষ সম্বলটুকে হারিয়ে ফেলেছেন।’
এতে দোকানগুলোতে থাকা মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। আগুনে পুড়েছে গ্যারেজে থাকা ৭টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ৩টি ভ্যান গাড়ি ও ২টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে দশঘরিয়া দক্ষিণ বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চাটখিল ও রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে দক্ষিণ বাজারের পাটিঘর এলাকার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্ত্বের মধ্যে আগুন দ্রুত চারদিকের দোকানে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে মুদি, কসমেটিকস, মনোহারী, গোডাউন, হকারদের মালামাল ও একটি গ্যারেজ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ধারণা করছেন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
চাটখিল উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা চাটখিল ও রামগঞ্জের দুটো ইউনিট একসাথে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আমাদের প্রাথমিক ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের তালিকা তৈরি করেছি। তদন্ত শেষে ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকিব ওসমান ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেট পরিদর্শন করেছেন। যে পরিবারগুলো আগুনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের খোঁজখবর নিয়েছি। আমরা সরকারি সহায়তা ছাড়াও স্থানীয় বিত্তবানদেরকেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।’


















