
মোঃরিয়াজুল সোহাগ, নিজস্ব প্রতিবেদক নোয়াখালীঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক মাদরাসা ছাত্রকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করেছে অপর এক ছাত্র। টুপি পরা নিয়ে পূর্বের ঝগড়ার জেরে এ বিভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাটরা আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসায়। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
নিহত ছাত্রের নাম মো. নাজিম উদ্দিন (১৩), সে উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্ল্যার ছেলে।
গ্রেফতারকৃত ছাত্র আবু ছায়েদ (১৬) ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয়েই মাদরাসার আবাসিক ছাত্র ছিলেন। নাজিম ২২ পারা এবং ছায়েদ ২৩ পারা পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টুপি পরা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়, পরে শিক্ষক বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু ছায়েদ ক্ষোভ না মিটিয়ে সোনাইমুড়ী বাজার থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি ধারালো ছুরি কিনে রাখে।
রোববার রাতে মাদরাসার আবাসিক কক্ষে ১৪ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নাজিমকে ছুরি দিয়ে জবাই করে ফেলে ছায়েদ। নাজিমের গোঙরানির শব্দে সহপাঠী ও শিক্ষকরা জেগে উঠে ঘটনাটি দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ছায়েদকে আটক করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করে।
ওসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, “টুপি পরা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
















