কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: চোখের সামনেই একে একে গিলে খাচ্ছে রাক্ষসী নদী। ভিটামাটি, দোকানপাট, শত বছরের স্মৃতি—সব এক নিমেষে তলিয়ে যাচ্ছে অতল গহ্বরে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনতা বাজারসহ আশপাশের শত শত ঘরবাড়ি এখন নদীগর্ভে। ভাঙনের এই তীব্রতায় দিশেহারা মুছাপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে নিঃস্ব ভিটেমাটিহারা পরিবারগুলোর করুণ আকুতি—'ত্রাণ চাই না, আগে নদী ভাঙন থামান!'
সরেজমিনে দেখা যায়, মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই অব্যাহত ভাঙনে তছনছ হয়ে গেছে গোটা উপকূলীয় জনপদ। রেগুলেটর সংলগ্ন যেটুকু অংশ অবশিষ্ট ছিল, সঠিক সময়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাও নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই দীর্ঘশ্বাসের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভে ফুটছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
ভিটেমাটি হারানো প্রবীণ এক ভুক্তভোগী ভেজা চোখে আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি সব ভাইঙ্গা নদীতে চইলা যাইতাছে। আমাগো এহন ব্রিজের দরকার নাই, কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁইডা বাঁচাইতে আগে নদী ভাঙন আটকানো দরকার।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে কেবল আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সময়মতো স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা বাঁধ কিংবা জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা গেলে আজ শত শত পরিবারকে এভাবে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়াতে হতো না।
ভাঙনকবলিত মুছাপুরবাসীর শেষ দাবি—আর কোনো কালক্ষেপণ নয়, অবিলম্বে জিও ব্যাগ ও জিও ব্লক ফেলে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিক পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকার। তা না হলে মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে পুরো মুছাপুর।
আরও জানতে চোখ রাখুন...