
স্টাফ রিপোর্টার||
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন সারাদেশে উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের পকেটে ‘বিষ’ ঢোকানোর এক মরণফাঁদ পেতেছিল একদল ধুরন্ধর প্রতারক। লক্ষ্য ছিল একটাই—পশুর হাট আর শপিং মলের উপচে পড়া ভিড়ে ‘জাল টাকা’ ছড়িয়ে দিয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া। তবে সেই অশুভ পরিকল্পনার মাঝপথেই হানা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পণ্ড হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সেই নীল নকশা।
রাজধানীর এক গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে জাল টাকা ছাপানোর মহোৎসব। উদ্ধার করা হয়েছে বান্ডিল বান্ডিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রটি এমন উন্নতমানের কাগজ ও রঙ ব্যবহার করছিল যে, খালি চোখে এগুলোকে আসল থেকে আলাদা করা দুঃসাধ্য। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটে যখন দ্রুত লেনদেন হয়, তখন ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকেই বোঝার সুযোগ না দেওয়ার জন্যই এই নিখুঁত কারিগরি।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। মূল হোতারা জাল টাকা ছাপিয়ে নির্দিষ্ট এজেন্টের মাধ্যমে তা সরবরাহ করে। এই এজেন্টরা আবার পশুর হাটের দালাল বা অস্থায়ী দোকানিদের টার্গেট করে। বড় অঙ্কের আসল টাকার ভেতরে দু-একটি জাল নোট ঢুকিয়ে দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা হাতিয়ে নেয়।
ডিবি প্রধানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই চক্রটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার টার্গেট নিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশুর হাটে ইজারাদারদের বিশেষ ক্যামেরা ও জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন বাড়ানোর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “ঈদের কেনাকাটা বা পশু কেনার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। নোটের জলছাপ ও নিরাপত্তা সুতা ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। সন্দেহ হলেই পাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানান।”
উৎসবের আনন্দ যেন কারো দীর্ঘশ্বাসে পরিণত না হয়, সেজন্য পুরো রাজধানীসহ সারাদেশে ডিবির বিশেষ টিম এখন ছদ্মবেশে মাঠে রয়েছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...