
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
অবশেষে মেঘ কেটে রোদ হাসলো নোয়াখালী সরকারি কলেজে। শিক্ষক লাঞ্ছনা ও ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের ক্ষমা করে পুনরায় বুকে টেনে নিলেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ মধ্যস্থতায় শনিবার বিকেলে কলেজ প্রশাসন ও ছাত্রদের মধ্যকার দীর্ঘ ‘ভুল বোঝাবুঝির’ অবসান ঘটে।
গত বুধবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, শিক্ষকরা যখন মধ্যাহ্নভোজে ছিলেন, তখন ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী অতর্কিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষক সশরীরে লাঞ্ছিত ও আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে জড়িত ছাত্রদের কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাস জুড়ে চাপা উত্তেজনা ও থমথমে ভাব বিরাজ করছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে শনিবার (২ মে) বিকেলে এগিয়ে আসেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শাহজাহান। তাঁর উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত ছাত্ররা তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অধ্যক্ষ মহোদয় বড় মনের পরিচয় দেন। তিনি বহিষ্কৃত ছাত্রদের অভিভাবকতুল্য স্নেহে ক্ষমা করে দেন এবং তাদের পুনরায় একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সুযোগ করে দেন।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা বলেন, "শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। তারা ভুল বুঝতে পেরেছে—এটাই বড় কথা। আমরা চাই ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ অটুট থাকুক।" সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব, আজকের এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ক্ষমার সংস্কৃতির ফলে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং শিক্ষার গুণগত মান আরও সুসংহত হবে। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই কলেজের পরিবেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...