বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট|
বাংলাদেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হবে যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবে এবং "কথা বললেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে"—এমন ভয়ের সংস্কৃতি আর বজায় থাকবে না।
শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করে।
বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের বর্তমান আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট জারির পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, "ওয়ারেন্ট হওয়ার সাথে সাথেই কাউকে গ্রেপ্তার না করে পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আদালতে হাজিরা মিস হতে পারে। তাই ওয়ারেন্টের কাগজ হাতে আসার পর অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া মানবিক ও ন্যায়সংগত।"
বিএনপি চেয়ারম্যান তার নেতাকর্মীদের জনগণের আস্থার প্রতীক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা ভেঙে ফেলাই হবে আগামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যাতে তাদের অভাব-অভিযোগ প্রশাসনের কাছে নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
একইসাথে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "দলের ভেতর কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনস্বার্থ বিরোধী কাজ বরদাশত করা হবে না। দেশ গড়ার কাজে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
শনিবার সকাল থেকেই সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতার কাছ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা পেয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য মূলত আগামীর বাংলাদেশে সুশাসন এবং মানবাধিকার রক্ষার একটি রাজনৈতিক রূপরেখা দেওয়ার প্রচেষ্টা।
আরও জানতে চোখ রাখুন...