
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি 'কিশোর গ্যাং' সদস্যদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহত মো. সেলিম স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি এবং পেশায় একজন চা দোকানি ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোরের (সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজ) মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মূলত ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ সম্বোধন নিয়ে এই দ্বন্দ্বের শুরু।
শনিবার দুপুরে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে সন্ধ্যার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে চড়াও হয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ির সামনে শোরগোল এবং ছেলেদের ওপর হামলার খবর পেয়ে নিজের দোকান থেকে ছুটে আসেন সেলিম। তিনি ছেলেদের রক্ষা করার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ কিশোররা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার এক পর্যায়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন:
"আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
নিহত সেলিম বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের স্থানীয় পর্যায়ের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম পুরো ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক মারামারি হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান:
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...