এ.কে পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি।।সৌদি আরবের বাদশাহর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো ৫২০ কার্টুন খেজুর ঢাকা থেকে কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর ২০ কার্টুন 'গায়েব' হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নথিতে ৫২০ কার্টুনের কথা উল্লেখ থাকলেও জেলা ত্রাণ কার্যালয় বলছে তারা পেয়েছে ৫০০ কার্টুন। এই ২০ কার্টুন খেজুর কোথায় গেল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত সোমবার কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাবেদ আলী ১৭টি উপজেলায় জনসংখ্যার অনুপাতে ৫০০ কার্টুন খেজুর বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে পাঠান। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার চিঠিতেও ৫০০ কার্টুন খেজুর বিতরণের তথ্য পাওয়া যায়।
তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় তালিকায় কুমিল্লা জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল ৫২০ কার্টুন। মাঝপথে এই ২০ কার্টুন খেজুরের কোনো হদিস না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
এই অসংগতির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাবেদ আলী দায় অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা থেকে তাদের ৫০০ কার্টুনই পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন:
"আমি পাঁচশ কার্টুনই পেয়েছি। ঢাকা থেকে হয়তো চিঠি পরিবর্তন করা হয়েছে কিন্তু ওয়েবসাইটে এখনো তা আপডেট করা হয়নি। আপনারা প্রয়োজনে ডিজি (মহাপরিচালক) অফিসে ফোন দিয়ে জানতে পারেন।"
তবে অধিদপ্তরের নথির সাথে জেলা পর্যায়ের এই তথ্যের গরমিল কেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
উপহারের খেজুর নিয়ে এমন অসংগতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তানিম আহমেদ নামে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "সৌদি বাদশাহর দেওয়া উপহার ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতে যদি ২০ কার্টুন উধাও হয়ে যায়, তবে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"
সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। সৌদি আরবের 'কিং সালমান হিউমেনিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার' থেকে আসা এই ত্রাণ সামগ্রী মূলত দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
জানতে চোখ রাখুন...