
"প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নাকভির রুদ্ধদ্বার বৈঠক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার"
স্পোর্টস রিপোর্টার |
ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জনের পর এবার বিশ্ব ক্রিকেটে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সংকেত দিচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দেশটি। এই ইস্যুতে আজ সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ মিনিটের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। বৈঠক শেষে নাকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে ‘সব বিকল্প’ এখনও টেবিলের ওপর খোলা রয়েছে।
আইসিসি সম্প্রতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কাকে ‘যাচাইযোগ্য নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই সরব ছিল পাকিস্তান। বৈঠকে পিসিবি প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসির ‘একচোখা’ নীতি এবং বাংলাদেশের প্রতি করা অবিচারের বিষয়টি বিস্তারিত অবহিত করেন। সূত্রমতে, বৈঠকে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানো অথবা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জন করার মতো কঠোর পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মহসিন নাকভি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্রিফ করেছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি, আগামী শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারবে জানা গেছে,পিসিবি এই সংকটে চারটি সম্ভাব্য ‘প্ল্যান’ হাতে রেখেছে:
* প্ল্যান এ: প্রতিবাদ হিসেবে প্রতিটি ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামা।
* প্ল্যান বি: কেবল ভারতের বিপক্ষে কলম্বোর ম্যাচটি বয়কট করা।
* প্ল্যান সি: প্রতিটি জয় বাংলাদেশের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহীদদের উৎসর্গ করা।
* প্ল্যান ডি: বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নাম প্রত্যাহার।
পাকিস্তানও যদি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়, তবে সম্প্রচার স্বত্ব এবং বিজ্ঞাপনী আয়ের দিক থেকে আইসিসি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপের জৌলুস ও বাণিজ্যিক মূল্য তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। ইতিমধ্যে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইসিসিকে ‘বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ’ বলে সমালোচনা করছেন।
এদিকে, বাংলাদেশের সাংবাদিক মহলেও আজ ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় আইসিসি প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কোনো কারণ ছাড়াই বাতিল করে ইমেইল পাঠিয়েছে। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির প্রতিহিংসামূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ। পাকিস্তান যদি সত্যিই বর্জন করে, তবে সেটি বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন পরের পাতায়...