
নিজস্ব প্রতিবেদক |বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
দেশের জরাজীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে এক বড় ধরণের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর ইঙ্গিত দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ২৪ জানুয়ারি জাস্টিস শাহাবুদ্দিন পার্কে তরুণদের সাথে আড্ডায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষা মানে কেবল দালান-কোঠা বা চারতলা স্কুল ভবন নয়; বরং মূল ফোকাস হবে মেধা ও দক্ষ শিক্ষক তৈরিতে।
আড্ডায় শিক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। তবে আমাদের বাজেট নতুন নতুন তিন, চার বা পাঁচতলা বিল্ডিং বানানোর জন্য নয়। ওই অর্থ আমরা ব্যয় করব শিক্ষকদের পেছনে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষকরা যেন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পান।” তার মতে, একজন দক্ষ শিক্ষকই পারেন একটি প্রজন্মের চিন্তার জগত বদলে দিতে, যা কেবল ইটের দেয়াল দিয়ে সম্ভব নয়।
তারেক রহমান মনে করেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিশুদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন—
তারেক রহমান আরও জানান, ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। এই কমিশনের কাজ হবে গতানুগতিক সিলেবাসের বদলে কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষাকে প্রাথমিক স্তর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করা। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিছক সার্টিফিকেট বিতরণের কেন্দ্র না বানিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
সাইবার বুলিং এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “শিশুদের যদি শৈশব থেকেই ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য শেখানো যায়, তবে সমাজ থেকে মব জাস্টিস বা দুর্নীতির মতো ব্যাধি চিরতরে নির্মূল হবে।”
“আমরা মুখস্থ বিদ্যার বদলে ব্যবহারিক শিক্ষায় বিশ্বাসী। তরুণদের হাতকে আমরা কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই।”
২৪ জানুয়ারি বিকেলে জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন আড্ডায় তারেক রহমানের এই শিক্ষা দর্শন তরুণদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে ‘ব্রেন ড্রেইন’ রুখতে এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে এই পরিকল্পনা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।