মো. তৌফিকুর ইসলাম, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) চাল বিতরণে অনিয়ম ও ওজনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিক উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ করেন বর্তমান ডিলার ইলিয়াস মিয়ার বাবা ও সাবেক ডিলার গোলাম মস্তোফা শরিফ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিশাখালি ইউনিয়নে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন ইলিয়াস মিয়া। তবে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন তার বাবা গোলাম মস্তোফা শরিফ। এর আগে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে তিনিই ডিলারশিপ পান। এবার ছেলে ইলিয়াস মিয়ার নামে ডিলারশিপ হলেও কার্যত তিনিই দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ৩০ কেজি চালের বস্তায় ১–২ কেজি পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুবিধাভোগী জানান, “বছরের পর বছর এমনভাবেই চাল দিচ্ছে। কিছু বললেও কোনো লাভ হয় না। তার ক্ষমতা অনেক।”
আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এশিয়ান টেলিভিশন ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে চাল বিক্রির অনিয়ম ধরা পড়ে। এক কার্ডধারী ব্যক্তি ৪ বস্তা সরকারি চাল নগদ টাকায় বিক্রি করতে চাইলে সাংবাদিককে চিনে ফেলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ডিলার। এরপর সাংবাদিক চাল মাপার অনুরোধ করলে গোলাম মস্তোফা শরিফ ক্ষেপে গিয়ে বলেন, “চাউল ঠিক না থাকলে কি হইবে! আপনি গিয়ে টিইউনওর কাছে জবাব দিহিতা করেন।”
পরবর্তীতে ৩০ কেজির চারটি বস্তা ওজন করলে প্রত্যেকটিতেই ২৯ কেজি করে চাল পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রতিটি বস্তায় ১ কেজি করে চাল কম। ডিলার ইলিয়াস মিয়ার কার্ড সংখ্যা ৫৪৫ জন। হিসাব অনুযায়ী প্রতিজন থেকে ১ কেজি চাল কমালে প্রায় সাড়ে পাঁচ শত কেজি চাল কোথায় যায়—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, “চাল উঠানো-নামানোর সময় কিছুটা কম হতে পারে। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, “৩০ কেজি চালের বস্তা থেকে এক কেজিও কম দেওয়া যাবে না। অনিয়মের প্রমাণ পেলে অবশ্যই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”