
যুক্তরাষ্ট্র যাত্রায় এবার নতুন 'কাঁটা' হয়ে এল বিশাল অঙ্কের আর্থিক গ্যারান্টি বা ভিসা বন্ড। আজ ২১শে জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হচ্ছে আলোচিত এই নিয়ম। এখন থেকে বাংলাদেশি বি১/বি২ (ট্যুরিস্ট ও বিজনেস) ভিসা আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শর্তে গুনতে হবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৭ লাখ টাকারও বেশি। মার্কিন দূতাবাসের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ আবেদনকারীদের।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা। যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করা হবে, তাদের জন্যই এই নিয়ম। উদ্দেশ্য পরিষ্কার—পকেটের টাকা ফেরত পেতে হলেও যেন ভ্রমণকারীরা সময়মতো দেশে ফিরে আসেন।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সব আবেদনকারীকে এই বন্ড দিতে হবে না। কনস্যুলার অফিসার যদি মনে করেন কোনো আবেদনকারীর 'টাইজ' বা দেশে ফেরার জোরালো প্রমাণ কম, তবেই তাকে এই ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে এই 'নির্দিষ্ট শর্ত' আসলে কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, এই বন্ডের টাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে। ভ্রমণকারী যদি ভিসার কোনো শর্ত ভঙ্গ না করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তবেই তিনি এই পুরো টাকা ফেরত পাবেন। কিন্তু যদি কেউ সেখানে গিয়ে থেকে যান বা নিয়ম ভাঙেন, তবে এই বিশাল অঙ্কের টাকা বাজেয়াপ্ত করবে মার্কিন সরকার।
রাজধানীর বারিধারায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে আজ সকালে দেখা গেছে ভিসা প্রার্থীদের ভিড়। অনেকের মাঝেই ছিল চাপা আতঙ্ক। এক আবেদনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এমনিতেই ডলারের দাম আকাশচুম্বী, তার ওপর ১৭ লাখ টাকার বন্ড জমা দেওয়া আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাতায়াত অনেকাংশে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত যারা ঘুরতে বা স্বজনদের দেখতে যেতে চান, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন এখন আরও দামী হয়ে উঠল।