
🌏 সিলেট প্রতিনিধি | বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম |
দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের অবসান ঘটিয়ে সিলেট-২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেবিএনপির দুটি প্রভাবশালী বলয় ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। নানাজল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে দলটির শীর্ষ নেতাকর্মীরা বিভেদ ভুলে এক কাতারেদাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কিছু নেতাদের ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও ধানেরশীষের মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে বিভ্রান্ত করেন। এর ফলে মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ও নির্যাতিতঅনেক নেতাকর্মী দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
ওই নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিরোধ জিইয়ে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। এপরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সিলেট-২ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে দুটি পৃথক বলয়ের সৃষ্টি হয়। একটি বলয়েরনেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং অপর বলয়ের নেতৃত্বে ছিলেন তাহসিনা রুশদীরলুনা।
লুনার নেতৃত্বাধীন উপজেলা পর্যায়ের কিছু তথাকথিত নেতা একতরফা রাজনীতির মাধ্যমে এই বিভক্তির কারিগরহিসেবে ভূমিকা রাখেন। নিজেরা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষে দিনের পর দিন নেত্রীকে ভুল তথ্য দিয়েবিভ্রান্ত করে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। বিশ্বনাথ উপজেলায়দু’গ্রুপের বিরোধ একসময় রক্তপাতে জড়ালেও ওসমানীনগরে মুখোমুখি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আলাদা পথচলার পর অবশেষে নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপেবিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই বলয়ের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেট জেলা বিএনপিরসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে।
শনিবার সিলেট নগরীর লামাবাজারস্থ লাভিস্তা হোটেল মিলনায়তনে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলা এবংপৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমন্বয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সব সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক আব্দুলকাইয়ুম চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয় সিলেট-২ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ওবিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকতেনা পারলেও তার সম্মতি ও সমর্থন ছিল বলে সভা সূত্রে জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে।কিন্তু এখন আর বিভক্ত থাকার কোনো সুযোগ নেই। সব ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতেসবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই বিএনপি পরিবারের সদস্য। মতভিন্নতা থাকতেপারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। বিএনপি গণমানুষের দল, এ দলের মূল শক্তি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সিলেট-২আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ভবিষ্যতে আবারও বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
সে সুযোগ আর নেই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ বিরোধে জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনিশান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণমুখী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ময়নুল হক চৌধুরী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলামফারুক, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, ইমরান রব্বানী, ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, সুহেল আহমদ চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপিরসভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্তসভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিশ্বনাথের প্রবীণ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জালালউদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াস মিয়া, চেয়ারম্যান ধলা মিয়া, রুহেল মিয়া এবং বিশ্বনাথ পৌর বিএনপিরসাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম।
এ ছাড়া তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে আগামী ২ অথবা ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুনকবিরের উপস্থিতিতে দুই উপজেলায় দুটি কর্মীসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কৌশল নির্ধারণ, সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার এবংমাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন …
মতামত দিন।