"২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম বিএনপি নেতা বাচ্চুর"
নিজস্ব প্রতিবেদক|
সিরাজগ্জ উল্লাপাড়ায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে উপজেলার তেতুলিয়া এলাকায় ধানের শীষের মিছিলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৬ জন ছাত্রদল কর্মী ও কিশোর সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিএনপি অভিযোগ করেছে, জামায়াতের ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলে থাকা ছোট ছেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
হামলায় আহতরা হলেন— ডুমুর ইছা গ্রামের সোহেল সেখের ছেলে মইন সেখ (১৫), আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিব (২০), মনু সেখের ছেলে রিফাত সেখ (২০), ফজলু তালুকাদারের ছেলে খায়রুল সেখ (১৮), নুরনবীর ছেলে হিমেল (১৮) ও হাছেনের ছেলে হিমেল (১৮)। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্র হিমেল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “সন্ধ্যার পর গ্রামের কিছু ছোট ছেলেদের নিয়ে আমরা মিছিল করছিলাম। এ সময় বিপরীত দিক থেকে জামায়াতের একটি মিছিল আসছিল। ক্রসিংয়ের সময় হঠাৎ করেই তারা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাদের কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে তাদের মিছিলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে লাথি-ঘুষিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে। আমরা কাউকে মারপিট করি নাই, তবুও তারা আমাদের ছাড়েনি। পরে বিএনপির বড় ভাইয়েরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।”
খবর পেয়ে হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জামায়াত নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে মিছিলে হামলা চালিয়ে ৬ জন ছাত্রকে আহত করেছে। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও জানতে চোখ রাখুন পরের পাতায়...